
প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় অটো ভাড়া বাড়লেও, সাধারণত বিজয়া দশমীর পর বা অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুজোর পর আগের ভাড়াতেই ফিরে আসে শহরের অটো রুটগুলো। কিন্তু এ বছর ছবিটা আলাদা। পুজোর জন্য বাড়ানো ভাড়া এবার আর কমানো হচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন রুটে অটোচালক ও ইউনিয়নগুলির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ীভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ২ টাকা করে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শহরজুড়ে ন্যূনতম ভাড়া ১০ টাকার বদলে ১২ টাকা করা হয়েছে। কিছু কিছু রুটে ন্যূনতম ভাড়া ১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় অটো ইউনিয়নগুলির দাবি, চার বছর পর এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হল।যে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে সেগুলির মধ্যে রয়েছে রুবি থেকে বালিগঞ্জ স্টেশন, রাসবিহারী থেকে গড়িয়াহাট, চক্রবেড়িয়া থেকে লেক গার্ডেন্স, বেহালা চৌরাস্তা থেকে সরসুনা, গড়িয়া থেকে বোড়াল, বেহালা চৌরাস্তা থেকে শকুন্তলা পার্ক।দক্ষিণ কলকাতার এক অটো ইউনিয়ন নেতা গোপাল সাহা জানান, “অনেক চিন্তাভাবনার পরই এই ভাড়া সংশোধন করা হয়েছে। বৃদ্ধি খুবই সীমিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে গাড়ি ধাপে ধাপে পরিবর্তনের জন্য আমাদের অনেক খরচ হচ্ছে। কোভিডের পর দ্বিতীয়বার ভাড়া সংশোধন করা হল এবং এটি শহরজুড়ে একই হারে প্রযোজ্য।”গড়ফার এক বাসিন্দা বলেন, “দশমীর পরও ২ টাকা বেশি চাইছে শুনে আমি অবাক হয়েছি। যেমন বাসের ভাড়া নির্ধারণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে, তেমন অটোর জন্যও থাকা উচিত। এখনকার ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী খুচরো নিয়ে ঝামেলা, তর্ক-বিতর্ক আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।”এটুকুই নয়, সংগঠিত ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি শহরের অনেক রুটে ইচ্ছেমতো ভাড়া নেওয়া শুরু হয়েছে। যেমন বি কে পাল অ্যাভিনিউ থেকে বড়বাজার রুটে যেখানে ভাড়া হওয়া উচিত ৭ বা ৮ টাকা, সেখানে অফিস টাইমে ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে ১৪ টাকা পর্যন্ত। দুপুরে যখন যাত্রী চাপ কম থাকে, তখন অনেক সময় চালকরা ঠিক ভাড়া নেন। ফলে ওই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা।অটো ইউনিয়নের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, “অনেক বছর ধরে ভাড়া বাড়েনি। তাই বাধ্য হয়েই এবার ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।” তবে, এবার এই ভাড়া বৃদ্ধি পুজোর পরও স্থায়ীভাবে বহাল থাকবে, আগের মতো আগের ভাড়ায় ফেরত যাওয়া হবে না। ফলে দৈনন্দিন যাত্রীদের পকেট থেকে এবার বাড়তি খরচ গুনতে হবে নিয়মিতভাবেই।
