
লাগাতার ভারী বর্ষণে গোটা পূর্ব হিমালয় অঞ্চল বিপর্যস্ত। নেপালে ভূমিধস ও বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন বলে সংবাদ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। শুক্রবার থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে নেপালের নদীগুলি ফুলেফেঁপে উঠেছে এবং বহু এলাকা প্লাবিত।
ভুটানের বাঁধ উপচে উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভুটানের টালা হাইড্রোপাওয়ার ড্যামের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে জল উপচে পড়তে শুরু করেছে। ফলে উত্তরবঙ্গ জুড়ে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং জেলায় প্রবল বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭ জন শিশু। বহু বাড়িঘর চাপা পড়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভেঙে পড়েছে এবং দুর্গম গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
উত্তরবঙ্গের ডিজি ও আইজি রাজেশ কুমার যাদব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি ঘুরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তবে এনডিআরএফ ও জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সর্সালি, জসবীরগাঁও, মিরিক বস্তি, ধরগাঁও (মেচি), নাগরাকাটা ও মিরিক লেক এলাকা থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “শনিবার রাতে মাত্র ১২ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে ৩০০ মিমি-র বেশি বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভুটান ও সিকিম থেকে অতিরিক্ত জল নেমে আসায় সংকোশ নদীতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলেই এই বিপর্যয়।”

মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও দার্জিলিংয়ের এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আবহাওয়া দফতর সাব-হিমালয়ান পশ্চিমবঙ্গ (দার্জিলিং, কালিম্পং) অঞ্চলের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে, ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
