
উত্তাল পাহাড়ি নদী। সেই নদীর জলে ভেসে আসছে সার সার লাল চন্দন কাঠ। এ যেন অবিকল দক্ষিণের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পুষ্পার দৃশ্য। তবে সিনেমার পর্দায় নয়। এই দৃশ্য দেখা গেল বাস্তবেই। ঘটনাটি ঘটেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে। লাগাতার ভারী বর্ষণের জেরে সেখানে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র এবং দুধকুমার নদীর উজানে জলের সঙ্গে ভেসে গিয়েছে শত শত লাল চন্দন কাঠ এবং গাছের গুঁড়ি।
উজানের টানে এই সমস্ত লাল চন্দন কাঠ ও গাছের গুঁড়িগুলি ভারত থেকে বাংলাদেশে গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে পোয়াবারো স্থানীয় বাসিন্দাদের। সূত্রের খবর, চন্দন কাঠগুলি ‘রক্ত চন্দন’ বা ‘লাল চন্দন কাঠ’ হওয়ার কারণে সেগুলি কার্যত আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি করছেন কুড়িগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা।
লাগাতার বর্ষণের জেরে গত রবিবার ভোর থেকেই অসম থেকে নদীপথে এই লাল চন্দন কাঠগুলি ভেসে যেতে থাকে বাংলাদেশে। কালজানি নদী হয়ে দুধকুমার নদী ও চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের জলে এই কাঠ এবং গাছের গুঁড়িগুলি ভেসে যেতে থাকে। ফলে একেবারে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় প্রতিবেশি দেশের মানুষদের মধ্যে। জানা যাচ্ছে, উৎসুক জনতা ভোর থেকেই নৌকা ও বাঁশের ভেলা নিয়ে নেমে পড়ে কাঠ সংগ্রহ করার প্রতিযোগিতায়।

কেউ সাঁতরে, আবার কেউ বা বাঁশের ভেলা বানিয়ে লাল চন্দন কাঠগুলি নদীর স্রোত থেকে সংগ্রহ করে তীরে তুলতে শুরু করে। এরপর সেগুলি নদীর তীরে তোলামাত্রই শুরু হয় চড়া দামে বিক্রি। সূত্রের খবর, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে একেকটি লাল চন্দন গাছের গুঁড়ি বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় লক্ষ টাকা থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও
গাছের গুঁড়িগুলি বিক্রি করা হচ্ছে ২০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায়। কোথাও কোথাও দাম অবশ্য আরও চড়া।
তবে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জের দামাল গ্রামের আব্দুল মোতালেব। তিনি জানিয়েছেন, ৪ জন মিলে ৫০ ফুটের মতো একটা লাল চন্দন গাছ তুলেছেন। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অনেকেই ৩ থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকায় লাল চন্দন কাঠ বিক্রি করছেন।

