
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও পরবর্তীতে তিনি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তবে রাজনৈতিক যাত্রায় সেই স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয়নি, এরপর থেকেই শোভনের ঘরে ফেরার জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে।
সম্প্রতি পাহাড়ে একটি গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তার সঙ্গিনী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তারা বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে রিচমন্ড হিলে পৌঁছান এবং সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে এটি নতুন করে শোভনের তৃণমূলে ফেরার গুঞ্জন তীব্র করেছে।
মমতার পাশাপাশি বৈঠকে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভন-অভিষেক বৈঠকের পর অনেকেই ধারণা করছেন শোভনের তৃণমূলে ফেরা সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদিও শোভন নিজে বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। রাজনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শোভনের সমতল থেকে পাহাড়ে গিয়ে বৈঠক করা মূলত নতুন রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পাহাড়ে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকের সময় শোভন- বৈশাখীকে দেখা করেন। বৈঠকের পর কোন বক্তব্য দেওয়া হয়নি, যা সংবাদমাধ্যমে জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজ্য রাজনীতিতে শোভনের ফেরা একদিকে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে, অন্যদিকে বিরোধীদের মধ্যে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে শোভনের ঘরে ফেরার সম্ভাবনা এখন সকলের নজরকেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল বা শোভন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে আশ্চর্যজনক পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
শোভনের সিদ্ধান্ত এবং বৈঠকের ফলাফলের ওপরই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে।
