
আচার্য দীনেশচন্দ্র সেনের ১৫৯তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতার বি.এম. বিড়লা প্লানেটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো ‘আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন’ আলোচনা সভা ও ‘জীবনব্যাপি সম্মাননা’ ২০২৫ অর্পণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে ‘আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন রিসার্চ সোসাইটি, ভারত’, যার মূল উদ্দেশ্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের কর্মসংস্কৃতি ও সাহিত্যিক অবদান পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেন বৈজ্ঞানিক ও অধ্যাত্ম সাধক ড. অরূপ মিত্র। বিশেষ অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মানবেন্দ্রনাথ সাহা এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. অমলকান্তি রায়। ‘দীনেশচন্দ্র সেন ও রবীন্দ্রনাথ : সখ্যে, সামীপ্যে’ শিরোনামে অধ্যাপক সাহা স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন, যেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ, শান্তিনিকেতন এবং পুত্র অরুণচন্দ্রের আশ্রমে অধ্যাপনা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।
এই অনুষ্ঠানে চারজনকে ‘জীবনব্যাপি সম্মাননা’ ২০২৫ প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম গাজী, জাতীয় শিক্ষক মিনতি দত্ত মিশ্র, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন চক্ষু পরীক্ষক ডা. সুব্রত ভট্টাচার্য এবং পশ্চিম বাংলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শান্তি দাস। মাননীয়া শান্তি দাস তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মানুষের সঙ্গে সহমর্মিতা ও সমান আচরণের গুরুত্ব প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে এছাড়াও অভিজিৎ বড়ুয়ার ‘বিরূঢ়ক’ উপন্যাস প্রকাশিত হয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সোসাইটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. বিমল কুমার থান্দার, যিনি সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন। দীনেশচন্দ্র সেনের প্রপৌত্রী এবং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক দেবকন্যা সেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সোসাইটিটি সীমিত সম্পদের মধ্যে সারাবছর এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও গবেষণা উৎসবের আয়োজন করে থাকে।
মোটমাট, অনুষ্ঠানটি ইতিহাস ও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেল।
