
মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের বড় ধাক্কা খেলেন। কলকাতার বিচারভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে বিচারক আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
জীবনকৃষ্ণের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ। একই মামলায় সিবিআই তাকে গ্রেফতার করলেও সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু ইডি পুনরায় গ্রেফতার করেছে। এছাড়া একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে, ইডি আইনজীবীদের পাল্টা বক্তব্যে বলেন, জীবনকৃষ্ণ সাহা ও তাঁর পরিবারের আর্থিক লেনদেনের নানা প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। জামিন মিলে প্রমাণ ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বহুবার সমন পাঠানো হলেও বিধায়ক হাজিরা দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইডি মানিক ভট্টাচার্যের উদাহরণ টেনে বলেন, সিবিআই মামলায় সুরক্ষা পেলেও ইডি মামলায় গ্রেফতার হওয়া সম্ভব। জীবনকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে হেফাজতে রাখা জরুরি।
শুনানির পর বিচারকের পর্যবেক্ষণ, আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে কোনও বাধা থাকা উচিত নয়। এর ফলে আপাতত মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে জেল হেফাজতেই থাকতে হবে।
এই মামলার ফলে রাজ্য রাজনীতি নতুন উত্তেজনার মধ্যে প্রবেশ করেছে। বিশেষত বিধায়কের পুনরায় গ্রেফতারের কারণে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আলোচনা ও চিন্তাভাবনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ব্যবস্থা রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে।
জেল হেফাজতে থাকা অবস্থায় জীবনকৃষ্ণ সাহার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হবে এবং তাঁর অনাগত কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আদালতের সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করবে।
