
কর্ণাটকে জাতীয় সঙ্গীতকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর হেগড়ে কাগেরির দাবি, ‘জন গণ মন’ মূলত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের স্বাগত জানানোর জন্য রচিত হয়েছিল। এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়।
কাগেরি বুধবার হন্নাভরে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ উভয়কেই ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে তার মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘জন গণ মন’ ব্রিটিশদের উদ্দেশ্যেই লেখা হয়েছিল। তিনি বন্দে মাতরমের অবদানও উল্লেখ করেন, যা স্বাধীনতা আন্দোলনের অনুপ্রেরণার উৎস।
এই মন্তব্যের পর কর্ণাটকের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খড়্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খড়্গে মনে করান, রবীন্দ্রনাথ ১৯১১ সালে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ কবিতার প্রথম স্তবক রচনা করেন, যা পরবর্তীতে ‘জন গণ মন’ নামে পরিচিত হয়। গানটি প্রথম গাওয়া হয় কলকাতায় ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গানটি দেশের ভাগ্যবিধাতাকে উদ্দেশ্য করে লেখা, ব্রিটিশ রাজাদের উদ্দেশ্যে নয়।
খড়্গে বলেন, যারা ইতিহাসে চোখ দিতে চায় না, তাদের উচিত প্রাচীন সম্পাদকীয় এবং প্রমাণিত ইতিহাস অধ্যয়ন করা। তিনি রেকর্ড মনে করান যে, জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের দীর্ঘ ইতিহাস রক্ষা করতে হবে।
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি ও রবীন্দ্রনাথের অবদানের আলোকে এই বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বোঝানোর প্রয়োজনীয়তাও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
এই বিতর্ক শুধু রাজনীতির নয়, দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্মৃতিকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনকেও সামনে এনেছে।
