
বর্ধমান: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ অভিযান (SIR) চলাকালীন একের পর এক সরকারি নথি উদ্ধার হয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বর্ধমান থেকে রাজগঞ্জ দুই জেলাতেই ঘটনা ঘটেছে। বর্ধমানের লালিতপুরে পুকুর পরিষ্কারের সময় শ্রমিকরা একটি ভারী বস্তা পান। বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে শতাধিক আধার কার্ড। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত কার্ড বাজেয়াপ্ত করে। প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, এটি দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিতভাবে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তর্ক তীব্র। বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, SIR প্রক্রিয়ার শুরু হওয়ার পর এমন ঘটনা কাকতালীয় নয় এবং এর পিছনে বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বিধায়করা মনে করছেন, এটি পুরনো বা ডুপ্লিকেট কার্ড যা আগে অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যেই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জেও নতুন চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বিডিও অফিসের পিছনের জঙ্গলে প্রচুর বৈধ ভোটার কার্ড পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা প্রথমে মাটিতে ছড়িয়ে থাকা কার্ড দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। সাফাই কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা কিছুই জানতেন না, তবে একটি সূত্র বলেছে, সম্প্রতি অফিস পরিষ্কারের সময় পুরনো কাগজপত্রের সঙ্গে ভোটার কার্ডও ফেলে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ঘাটিত কার্ডগুলির EPIC নম্বর সম্পূর্ণ বৈধ এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্যের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। অর্থাৎ এগুলি নকল নয়, প্রকৃত ভোটার কার্ড।
বর্ধমানের আধার কার্ড থেকে রাজগঞ্জের ভোটার কার্ড উভয় ঘটনাই রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়িয়েছে। প্রশাসন আপাতত সব নথি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। কার্ডগুলি কোথা থেকে এসেছে, কেন ফেলা হয়েছে এবং কার স্বার্থে এমন কাজ হয়েছে সবই এখন অনুসন্ধানের বিষয়।
রাজ্যের ভোট ও ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে।
