
বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। শিলিগুড়ির কন্যা রিচা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের হয়ে বিশ্বজয়ের পর দেশে ফিরতেই গোটা উত্তরবঙ্গ তাঁর সাফল্যে গর্বিত। শহরজুড়ে সাজানো হয়েছে হোর্ডিং, ব্যানার, শোভাযাত্রা প্রতিটি কোণে ফুটে উঠেছে গর্ব আর আবেগের ছবি। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয় লাল গালিচা বিছিয়ে, শহরের রাস্তায় জাতীয় পতাকায় মোড়া হুডখোলা গাড়িতে ঘুরে অভিনন্দন গ্রহণ করেন এই বিশ্বজয়ী।
তবে আনন্দের আবহে ছায়া ফেলেছে রাজনীতি। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার তথা ক্রীড়া দফতরের পক্ষ থেকে রিচাকে কোনও প্রকার সরকারি সংবর্ধনা বা আনুষ্ঠানিক সম্মান জানানো হয়নি। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ সরাসরি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, রিচা ঘোষ শুধুমাত্র মহিলা ক্রিকেটের নয়, গোটা বাংলার প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তবু মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি, এমনকি ক্রীড়া দফতরের পক্ষ থেকেও কোনও প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি।
শঙ্করের মতে, কলকাতা-কেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াবিদরা বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন। রাজ্যজুড়ে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের মুখের হোর্ডিং থাকলেও রিচার নামে একটি পোস্টারও নেই এই বিষয়টি নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এটি শুধু রিচার প্রতি নয়, বাংলার প্রতিটি ক্রীড়াবিদের প্রতি অবমাননা।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ি পুরসভার পক্ষ থেকে অবশ্য যথাযোগ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে রিচাকে। মেয়র গৌতম দেব নিজে উপস্থিত থেকে তাঁকে বরণ করেন, শহরের একাধিক ক্লাব ও সংগঠন নিজের উদ্যোগে আয়োজন করে সংবর্ধনার। শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে সিএবি-র পক্ষ থেকেও তাঁকে সম্মান জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবু প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে, রাজ্যের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কন্যাকে সরকারি স্বীকৃতি দিতে এত দেরি কেন? ক্রীড়া দফতরের নীরবতা নিয়েই এখন তুমুল আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে রিচার সাফল্যে গর্বিত গোটা বাংলা, অন্যদিকে রাজনীতির কোলাহলে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বাংলার ক্রীড়ার এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
