
আলিপুরদুয়ারে নৃশংস খুনে চাঞ্চল্য। দক্ষিণ চেচাখাতায় সাত মাসের এক কন্যা শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে তোলপাড় এলাকা। শুক্রবার দুপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় শিশুটি। প্রায় নয় ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর রাতে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরের এক মাঠের জলাশয় থেকে উদ্ধার হয় শিশুর দেহ। পুলিশ গ্রেফতার করেছে শিশুটির মা পূজা দে ঘোষকে।
পরিবারের দাবি, দুপুরে স্নান করতে গিয়ে পূজা শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে রেখে যান। ফিরে এসে আর তাকে দেখতে পাননি। পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা খোঁজ শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ ও জংশন আউটপোস্টের কর্মীরা। ব্যবহার করা হয় স্নিফার ডগ, দেখা হয় সিসিটিভি ফুটেজও, তবু মেলেনি কোনো সূত্র।
তদন্তে পুলিশ বুঝতে পারে পরিবারের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে। গভীর রাতে জেরার মুখে ফাঁস হয় আসল রহস্য। স্বীকার করে নেন পূজা, তিনিই শিশুটিকে হত্যা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অশান্তি থেকেই ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। কন্যা সন্তান জন্মের পর থেকেই নাকি বাড়িতে চলছিল অশান্তি। এছাড়া পূজার মানসিক ভারসাম্য নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা পূজাকে মারধর করার চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ তাকে নিরাপদে হেফাজতে নিয়ে যায়। শনিবার সকালে অভিযুক্তকে আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হবে। ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দেন এসডিপিও শ্রীনিবাস এম. পি।
এই হত্যাকাণ্ডে নাড়া খেয়েছে গোটা এলাকা। শিশুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে চেচাখাতায়। পরিবার ও প্রতিবেশীদের প্রশ্ন একজন মা কীভাবে এমন নির্মম হতে পারেন?
