
দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ও কাকদ্বীপ অঞ্চলে সামুদ্রিক হাঙ্গর মাছের অবৈধ নিধন ধরা পড়েছে। মৎস্য দপ্তরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু ট্রলার ছোট হাঙ্গর মাছ নিয়ে আসছে, যা বন ও মৎস্য দপ্তরের নজরদারি অগ্রাহ্য করছে। নামখানা নারায়নপুর মৎস্যবন্দরে তোলা ছবিতে দেখা গেছে ট্রলার থেকে নৌকায় ছোট হাঙ্গর মাছ ভর্তি ক্যারেট ওঠানো হচ্ছে। ক্যামেরার সামনে পড়ার পরও মৎস্যজীবীরা মাছ গুলো লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে।
দিনের আলোয় হাঙ্গর মাছের অবৈধ নিধন ও বাজারে বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা। তাদের মতে, এই অব্যবস্থা চলতে থাকলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী। হাঙ্গরের প্রজনন ও মাছের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উত্তরপ্রাপ্তির প্রেক্ষিতে নামখানা বনদপ্তরের রেঞ্জারের নির্দেশে রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তল্লাশী ও সচেতনতামূলক মাইক প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। বড় দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম ভঙ্গ হলে আগামী দিনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মাছের বাজারে হাঙ্গর পাওয়া সহজ হওয়ায় এই ধরণের চেষ্টায় কিছু মানুষ জড়িত। সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফিশারম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনও পরিস্থিতি নজরদারি করছে। বনদপ্তর ও মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগের মাধ্যমে হাঙ্গর মাছের নিধন নিয়ন্ত্রণে আসা সম্ভব কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতা প্রচারের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে হাঙ্গরের অবৈধ নিধন কমানো সম্ভব হবে এবং স্থানীয় সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাবে।
