
কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর কাগেরির মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। তিনি দাবি করেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজদের খুশি করতে লিখেছিলেন ‘জনগণমন’। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শনিবার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভা হয়। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা সেখানে উপস্থিত থেকে কবিগুরুর মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শশী পাঁজার মতে, বাংলাকে বারবার টার্গেট করে বিজেপি। কারণ এই রাজ্য এক মিনি ভারতবর্ষ, যেখানে সব ধর্ম, ভাষা, জাতি ও সংস্কৃতির মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন। এই ঐক্যই বিজেপির পছন্দ নয় বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি বাংলার মেরুদণ্ড ভাঙতে চাইছে, ইতিহাস বিকৃত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে এবং দেশের মহান ব্যক্তিত্বদের অপমান করছে।
তৃণমূলের বক্তব্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাংলার নয়, ভারতের গর্ব। বিজেপি যে মন্তব্য করেছে তা কবিগুরুর প্রতি অবমাননাকর এবং জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদাকে খাটো করে। তৃণমূল মনে করছে, এই ধরনের মন্তব্য দেশের সংবিধান ও সংস্কৃতির বিরোধী।
এদিকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও বিজেপির এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে রবীন্দ্রনাথকে হেয় করে রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে চাইছে।
কর্ণাটকের শাসকদল কংগ্রেসও এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রতিবাদে ফের গর্জে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক মহল। রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে রাজনীতির এই নতুন অধ্যায় ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, তৃণমূলের দাবি এই অপমানের জবাব মানুষই দেবে গণতন্ত্রের ময়দানে।
