
পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও বিএলও নমিতা হাঁসদা, বয়স ৫১। শনিবার বিকেলে গ্রামের কোঁড়া পাড়ায় ফর্ম বিলির কাজ চলাকালীন আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত কালনা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছিল, শরীর খারাপ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কাজে যেতে বলা হয়েছিল।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ভর করবে। এ সময়ে রাজ্যে ভোটার তালিকার ‘এনুমারেশন ফর্ম’ বিলির কাজ চলছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরে এবারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজ্যে ৮০,৬৮১টি বুথে এই কাজ চলছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএলওদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই ৬০ হাজারের বেশি বুথ লেভেল এজেন্ট নিয়োগ করেছে। বিজেপি ৩৭,৭০০, তৃণমূল ৩৫,৩৬৪, সিপিএম ২৯,১৬০ এবং কংগ্রেস ৬,৯৯৯ এজেন্ট নিযুক্ত করেছে। রাজ্যে বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত ১ কোটি ১০ লক্ষের বেশি ফর্ম বিলি করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ কোটিরও বেশি।
নমিতা হাঁসদার মৃত্যু সামাজিক এবং প্রশাসনিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফর্ম বিলি অভিযানের সময় বিএলওদের চাপ ও দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মীদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনার পর দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখছে।
