
স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফের নতুন মামলা উঠছে কলকাতা হাইকোর্টে। দীর্ঘ নয় বছর পর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিতর্ক যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন চাকরিপ্রার্থী আব্দুল সাত্তার, যিনি বর্তমানে বোলপুর সংশোধনাগারে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তিনি জেলের মধ্যেই পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সাত্তারকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ফলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সোমবার তাঁর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে বিষয়টি তুলতে চলেছেন।
আইনজীবীর দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি দেখানো প্রশাসনিক অবহেলারই প্রমাণ। এই ঘটনায় এসএসসির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেয় এসএসসি। মোট ৫ লক্ষ ৬৬ হাজারেরও বেশি প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির জন্য ২ লক্ষ ৯৩ হাজারের বেশি এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী ছিলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তাই পরীক্ষার মাত্র ৫৪ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করেছে কমিশন। কিন্তু এই মামলার পর নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্কের নতুন অধ্যায়।
