
নদিয়া: নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নতুন প্রক্রিয়া ঘিরে ফের এক মৃত্যু। নদিয়ার তাহেরপুরে ৬৫ বছরের শ্যামলকুমার সাহার মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিবারের দাবি, এনুমারেশন ফর্ম হাতে পাওয়ার পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। শ্যামলবাবু প্রায় ৩০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাহেরপুরে বসবাস করছিলেন। তাঁর ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড দুটি নথিই ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে স্থানীয় বিএলও বাড়িতে এসে এনুমারেশন ফর্ম দিয়ে যান। সেই ফর্ম পাওয়ার পর থেকেই উদ্বেগে পড়ে যান শ্যামলবাবু। স্ত্রীর কথায়, “ও বলত, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে এবার কী হবে! ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছিল।” ধীরে ধীরে তিনি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন, কথা বলা কমিয়ে দেন। সোমবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশীদের একাংশ জানান, সাম্প্রতিক নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট আলোচনায় শ্যামলবাবু অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। কেউ কেউ বলেন, “সরকার তো সরাসরি কিছু বলেনি, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।”
পরিবারের ক্ষোভ, এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের খোঁজ নেওয়া হয়নি। এলাকার মানুষ দাবি করছেন, এই মৃত্যু শুধুই শারীরিক নয়, এটি একপ্রকার সামাজিক আতঙ্কের ফল।
নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিভ্রান্তি ও আশঙ্কা যে কতটা গভীর হচ্ছে, এই ঘটনাই যেন তার প্রতিচ্ছবি। প্রশাসনের তরফে যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য মেলেনি। শ্যামলবাবুর মৃত্যুর পর শোকাহত এলাকাবাসী বলছেন, “কাগজের ভয়ে প্রাণ গেল এক সাধারণ মানুষের।”
