
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে ফের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি জানান, জিএসটি চালু হওয়ার সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে সমর্থন জানানোই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। তাঁর মতে, কেন্দ্র রাজ্যের প্রাপ্য করের টাকা আটকে রেখে অন্য রাজ্যকে দিচ্ছে। ফলে বাংলার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের পর থেকে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বন্ধ রয়েছে। আবাস যোজনা থেকে বন্যা ত্রাণ কোনও ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ মিলছে না। বাংলার ৪৩ শতাংশ নদীমাতৃক এলাকা প্রায় প্রতিবছরই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবুও কেন্দ্র সাহায্য দেয় না। উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও ভূমিধসে যে ক্ষতি হয়েছে, তা সামাল দিতে রাজ্য নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
তিস্তায় জলনিয়ন্ত্রণ ও দক্ষিণবঙ্গে ডিভিসির বন্যা নিয়েও কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, তিস্তাকে ব্লক করে রাজ্যের ক্ষতি করা হচ্ছে, অথচ কেউ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কেন্দ্রের অবহেলার মধ্যেও রাজ্য সরকার উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এমনটাই বার্তা দেন তিনি।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই এক কোটি বাড়ি তৈরি হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই আরও ১৬ লক্ষ বাড়ির টাকা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পড়ুয়াদের নিরাপত্তার জন্য ১০টি নতুন বাস চালুর ঘোষণাও করেন তিনি। চা শিল্পের ক্ষেত্রেও নতুন করে ২৪টি চা-বাগান খোলায় ২২ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের আর্থিক অধিকারের প্রশ্নে এবারও স্পষ্ট বার্তা দিলেন মমতা রাজ্যের প্রাপ্য টাকা রাজ্যকেই ফেরত দিতে হবে, বাংলার উন্নয়নের পথে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা আর মেনে নেওয়া হবে না।
