
আজ নন্দীগ্রাম শহিদ দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে জানান, নন্দীগ্রামের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বাংলার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজের নাম ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু নন্দীগ্রাম ও তার শহিদদের কখনও ভুলবেন না।
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ সেই সময় রূপ নিয়েছিল এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে, যার পরিণতিতে বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। সেই আন্দোলনের ফলেই রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান ঘটে।
নন্দীগ্রাম দিবস প্রতি বছর ১০ নভেম্বর পালন করা হয়, শহিদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তমলুক থেকে কোলাঘাট, হলদিয়া থেকে নন্দীগ্রাম—সব জায়গাতেই আজ সকাল থেকেই শ্রদ্ধার পরিবেশ দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ফুল, প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও আজকের দিনটি স্মরণ করেছেন। কেউ কেউ নন্দীগ্রামের আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করে রাজ্যকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তিনি নন্দীগ্রামের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজ্যের মানুষকে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। তার পোস্টে দেখা গেছে, নন্দীগ্রামের মতো আত্মত্যাগই ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছিল, আর সেই চেতনা আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
