
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে আজ শহিদ দিবসকে ঘিরে উত্তেজনা ও প্রতীকী রাজনৈতিক লড়াই। পাশাপাশি দুটি মঞ্চ একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে বিজেপি। প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনে সকাল আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী।
শুভেন্দু সকালেই শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং স্বল্প সময়ের বক্তব্যে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের ইতিহাসে তৎকালীন বিজেপির ভূমিকা উপেক্ষা করা যায় না। পাশাপাশি তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে শহিদ পরিবারগুলির ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার না পাওয়ার বিষয়টিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের পর থেকে প্রতি বছর শহিদ দিবসে দুই দলের সমান্তরাল কর্মসূচি হয়ে আসছে। বাম আমলে ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ নামে পরিচিত এই দিনটি এখন রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের মঞ্চে। প্রশাসন সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে প্রতিবারই নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে দেয় দুই পক্ষের মধ্যে।
তৃণমূলের মঞ্চে পরে দলের নেতারা শুভেন্দুর বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। তবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গোটা এলাকা ছিল নজরদারিতে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে।
নন্দীগ্রামের মানুষ এবারও দেখলেন একই দৃশ্য দুই মঞ্চ, দুই পতাকা, কিন্তু উদ্দেশ্য এক, শহিদদের স্মরণ। যদিও রাজনৈতিক ইঙ্গিত বলছে, এই স্মরণ সভা কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, আগামী ভোটযুদ্ধেরও প্রস্তুতি।
