
দিল্লির উপকণ্ঠে ফরিদাবাদে বিশাল অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুতের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ২০টি টাইমার, একটি রাইফেল, পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং একটি ওয়াকি-টকি সেট। গোয়েন্দাদের মতে, এত বড় পরিমাণ বিস্ফোরক রাজধানীর এত কাছে কী উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে চলছে গভীর তদন্ত।
ঘটনার সূত্র মেলে কাশ্মীরি চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাথার-এর গ্রেফতারের পর। গত মাসে শ্রীনগরে জইশ-ই-মহম্মদ সমর্থিত পোস্টার লাগানোর অভিযোগে তাকে ট্র্যাক করে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তদন্তে জানা যায়, আদিলের সংযোগ রয়েছে আরও এক চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের সঙ্গে, যিনি ফরিদাবাদের আল-ফলাহ হাসপাতালে কর্মরত। রাথারের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ফরিদাবাদে বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার হয়।
এর আগেই অনন্তনাগ মেডিকেল কলেজে রাথারের লকার থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল এবং গুলি উদ্ধার করেছিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। দুই রাজ্যের পুলিশের যৌথ অভিযানে এই বিশাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, শিক্ষিত পেশাজীবীদের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন নতুনভাবে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। কীভাবে এত পরিমাণ বিস্ফোরক রাজধানীর এত কাছাকাছি পৌঁছল, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনার পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও আন্তর্জাতিক যোগসাজশ খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনার পর থেকে দিল্লি ও আশপাশের রাজ্যগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ নজরদারি চলছে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে, যাতে কোনওভাবে জঙ্গি কার্যকলাপ মাথাচাড়া না দেয়।
