
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট বিপুল জয় পাওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সুর। প্রচণ্ড ভরাডুবি হয়েছে মহাগঠবন্ধনের, আর বিজেপি–জেডিইউ জুটি ও তাদের মিত্ররা ছুঁয়েছে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণ্ডি। ফলাফলে স্পষ্ট, রাজ্যে ফের উন্নয়নমুখী শাসনব্যবস্থাকেই বেছে নিয়েছেন ভোটাররা।
এই জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, বিহারের মানুষ গত কয়েক বছরের কাজ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প দেখে আবারও এনডিএ-কে বিশ্বাস করেছেন। তিনি বলেন, এবার আরও জোর দিয়ে রাজ্যের অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, নারী উন্নয়ন ও যুবশক্তির সুযোগ বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে আগামী দিনে আরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিজেপি এবার প্রায় নব্বইটির কাছাকাছি আসনে এগিয়ে গিয়ে নিজেদের শক্তিকে আরও বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জেডিইউও আগের তুলনায় ভালো ফল করেছে। এলজেপি (রামবিলাস) নেতা চিরাগ পাসওয়ান, এইচএএম প্রতিষ্ঠাতা জিতন রাম মাঞ্জি এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার উপেন্দ্র কুশওয়াহার দলও জোটের সাফল্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
২৪৩ সদস্যের বিধানসভায় এনডিএ-র প্রাপ্ত আসন সংখ্যা দুইশোরও বেশি ছুঁতে চলেছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল সাফল্য। অন্যদিকে আরজেডি ও মহাগঠবন্ধনের অন্যান্য দল হোঁচট খেয়ে বড়সড় প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। যদিও কয়েকটি আসনে আরজেডি ভালো লড়াই দিয়েছে, তবু সামগ্রিক চিত্রে জোটের ভরসা টিকিয়ে রাখতে পারেনি তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোট, উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার এই তিন মিলে এনডিএকে তুমুল সুবিধা এনে দিয়েছে। ফলাফল জানিয়ে দিল, বিহার এখন স্থিতিশীলতা ও উন্নত ভবিষ্যতের পথকেই আবারও বেছে নিয়েছে।
