
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লিগের আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। শেখ হাসিনার দল জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক ঢাকা অবরোধ সফল হয়েছে এবং সপ্তাহান্ত জুড়ে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি চলবে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ কর্মসূচি চলবে। রবিবার ও সোমবার পূর্ণাঙ্গ দেশব্যাপী বন্ধ ঘোষণা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য, ইউনুসকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা। গত কয়েক দিন ধরে ঢাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা, দোকানপাট বন্ধ, যান চলাচল কম এই অস্বাভাবিক নীরবতার মধ্যেই আন্দোলনের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে। আওয়ামী লিগের সমর্থকরা অভিযোগ করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকার দাবি করেছে আন্দোলন সফল নয়। তাদের মতে, ঢাকায় যেসব ভিডিও ছড়িয়েছে সেগুলো বিভ্রান্তিকর ও কৃত্রিমভাবে তৈরি। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব ফুটেজে দেখা গেছে যে পুলিশ কমিশনার নাকি গাড়ি চলাচল বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, সেটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বানানো। ফলে এ ধরনের প্রচারকে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আন্দোলনের মধ্যেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে কারণ ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার কথা। এই মামলাকে আওয়ামী লিগ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে আসছে। দলের অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদতে ইউনুসকে সামনে এনে তাদের সরকারকে সরানো হয়েছে।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে চেকপয়েন্ট বসিয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেককে গ্রেফতারের খবরও মিলছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত দিকের দিকে এগোচ্ছে।
