
আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আফিমচাষ ও হেরোইন উৎপাদনের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তালিবান শাসনের সময় এই মাদক শিল্প আফগানিস্তানের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। কোটি কোটি ডলারের এই ব্যবসা আন্তর্জাতিক বাজারে তালিবানকে স্বায়ত্তশাসন ও আর্থিক শক্তি দিয়েছে। ২০২১ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে তালিবান মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, তারা আফিম চাষ ও মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে।
তবে এই মাদক সাম্রাজ্যকে দুর্বল করতে শুধু স্থানীয় উদ্যোগ নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সংস্থা সিআইএও এক বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সিআইএ আফগানিস্তানের প্রধান আফিমচাষী প্রদেশগুলোতে পরিবর্তিত পোস্ত বীজ ছড়ানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালায়। এই বীজগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, এগুলি হেরোইনের মূল কাঁচামালের রাসায়নিক উপাদানের মাত্রা কমাতে সক্ষম। ফলে আফগান কৃষকেরা একই পরিমাণ চাষ করলেও হেরোইন উৎপাদন আর লাভজনক হবে না।
ব্রিটিশ সি-১৩০ বিমান ব্যবহার করে রাতের বেলায় হেলমান্দ ও নাঙ্গারহার প্রদেশে এই বীজ বিতরণ করা হয়। অভিযানের পুরো প্রকল্প অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল, এমনকি আফগান সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মার্কিন বিদেশ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে অবগত ছিলেন না।
ফলাফলে আফিমচাষের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। ২০২৩ সালে আফিম উৎপাদন ৬ হাজার ২০০ টন থেকে মাত্র ৩৩৩ টনে নেমে আসে। তবে প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদি কোনও স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারেনি। আফগানিস্তানের আফিম উৎপাদন ও মাদক ব্যবসার ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে মার্কিন উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
এই অভিযান প্রমাণ করে, কখনও কখনও সশস্ত্র হামলা নয়, বরং বিজ্ঞান ও কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব, যদিও এর প্রভাব সবসময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
