
দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার হরিপুর গ্রামে পাখির ডাক এখন জীবিকা তৈরির নতুন পথ দেখাচ্ছে। গ্রামের মানুষ এখন চেনেন ‘প্যারট দীপঙ্কর’ নামে দীপঙ্কর শীলকে, যার হাত ধরে পাখি চাষ আজ সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকায় এক সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হয়েছে।
দীপঙ্করের বিশাল পাখির ফার্মটি প্রায় ৩০০ ফুট লম্বা ও ১০০ ফুট চওড়া। বড় খাঁচার ভেতরে কৃত্রিম সবুজায়ন, ছোট ছোট ব্রিডিং কেজ আর নানা প্রজাতির অর্নামেন্টাল পাখির সমাহারে যেন এক ক্ষুদ্র পাখির স্বর্গ। লাভ বার্ড, বাজরি, ফিঞ্চ, ককাটেল থেকে শুরু করে নজরকাড়া রিংনেক তোতা সবই রয়েছে এই ফার্মে। খাঁচাগুলিতে দরজা নেই; পাখিরা ইচ্ছেমতো উড়ে বেড়ায়, আবার নির্দিষ্ট বাসায় ফিরে আসে। প্রতিদিন দু’বার ফল, ভুট্টা, খেজুর, পেয়ারা ও প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামজাত খাবার দেওয়া হয়।
পাখিদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে মুক্ত আকাশে উড়ে পুনরায় ফিরে আসার। এই পরীক্ষায় ইতিমধ্যেই সফল হয়েছে দীপঙ্করের টিম। প্রত্যেক পাখির নামসহ লাইসেন্স ও ট্যাগ নম্বর রয়েছে, ফলে সবকিছুই সরকারি নিয়ম মেনে পরিচালিত।
এখন তৈরি হচ্ছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ ঘর, যেখানে ভবিষ্যতে থাকবে সব পাখি। প্যারট দীপঙ্করের উদ্যোগ শুধু তার নিজের জীবিকা নয়, সুন্দরবনের মানুষদেরও নতুন আয়ের পথ দেখাতে পারে পাখির কলতান হয়ে উঠছে উন্নতির সুর।
