
দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও তদন্ত দু’মুখো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর মুখ খুললেন এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াসি। তিনি জানান, এমন হামলা ধর্মীয় নীতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশের আইন সব কিছুর পরিপন্থী। তার দাবি, আত্মঘাতী আক্রমণের মতো নৃশংসতা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয় এবং এটি সরাসরি সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখাই উচিত।
একই সঙ্গে ওয়াসি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কাশ্মীরে গত ছ’মাসে কোনও স্থানীয় যুবক জঙ্গি দলে যোগ দেয়নি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন দাবি সামনে আসার পর ওয়াসি জানতে চান, যদি তা-ই সত্যি হয়, তবে লালকেল্লা বিস্ফোরণে জড়িত দলটি কোথা থেকে সংগঠিত হলো এবং কীভাবে নিরাপত্তা বলয়ের নজর এড়িয়ে রাজধানীর কেন্দ্রে এমন নাশকতা ঘটাল। কাশ্মীর থেকে উত্তর ভারত, তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার যে বিস্তৃত নজরদারি রয়েছে, তার মধ্যেও একটি সংগঠিত মডিউল এতদূর পৌঁছতে পারল, এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এদিকে তদন্তে নতুন তথ্য মিলেছে। বিস্ফোরণে মূল অভিযুক্ত হিসেবে ধরা ডাক্তার উমর নাবির ফোন থেকে উদ্ধার হয়েছে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিডিও। ফরেনসিক দল নষ্ট মেমোরি থেকেও ডেটা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে তাকে আত্মঘাতী আক্রমণকে মহিমান্বিত করতে দেখা গেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভিডিওটি তার মতাদর্শ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেবে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ‘হোয়াইট কলার’ নেটওয়ার্কের মধ্যে উমর ছিলেন সবচেয়ে কঠোর মতাবলম্বী এবং অন্য সদস্যদেরও এমন হামলায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই গোষ্ঠীর কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে এবং কারা, কোথা থেকে, কীভাবে বিস্ফোরক সংগ্রহ করল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, তদন্তের অগ্রগতি দ্রুত, এবং খুব শিগগিরই পুরো চক্রের ছবি পরিষ্কার হবে।
