
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ভোট চুরি অভিযানের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ছড়াল দেশে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আমলা, সেনা কর্মকর্তা এবং কূটনীতিক, মোট ২৭২ জন প্রবীণ নাগরিক একটি খোলা চিঠি দিয়ে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের অবস্থানকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, বিরোধী শিবির নির্বাচনে বারবার পরাজয়ের হতাশাকে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ক্ষোভের মোড়কে ঢেকে দিচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের মৌলিক গণতান্ত্রিক কাঠামো আঘাতের মুখে পড়ছে সরাসরি নয়, বরং লাগাতার এক ধরনের তীব্র রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহারে। অভিযোগ অনুযায়ী, কংগ্রেস নেতৃত্ব কখনও সেনাবাহিনীর সাহস, কখনও বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, কখনও সংসদের ভূমিকা, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তোলে। এখন সেই তীর গিয়ে লেগেছে নির্বাচন কমিশনের ওপর।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাহুল গান্ধী বারবার ভোট চুরি বিষয়ক অভিযোগ তুললেও আজ পর্যন্ত তিনি নির্দিষ্ট কোনো নথি বা শপথ-পত্রসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাননি। এতে প্রবীণ সমাজ মনে করছে যে জনসভা থেকে ছোড়া এসব মন্তব্য আসলে রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, যা জনতার বিবেচনাকে বিভ্রান্ত করছে।
এখানে তারা পূর্বতন প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের দৃঢ় ভূমিকার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কমিশন বরাবরই কঠোর নিয়ম মেনে কাজ করেছে এবং তা ভবিষ্যতেও বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশে বেআইনি অভিবাসন ও ভোটার তালিকা সংরক্ষণে কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করে ভারতের ক্ষেত্রেও একই গুরুত্ব দাবি করা হয়েছে।
চিঠির শেষ অংশে প্রবীণরা আহ্বান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক নেতারা যেন পরাজয়ের ব্যাখ্যায় প্রতিষ্ঠানকে দায়ী না করে বরং নীতিগত সমাধান ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা সামনে আনেন। দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে কমিশনকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই চিঠি শুধু রাহুল গান্ধী নয়, বিরোধী রাজনীতির বর্তমান অবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
