
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরপর দু’টি কড়া চিঠি পাঠানোর পর নির্বাচন কমিশন অবশেষে দিল্লিতে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করেছে। আসছে শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ নির্বাচন সদনে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে ডাকা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে কারা উপস্থিত থাকবেন এবং তাঁদের ব্যবহৃত গাড়ির তথ্য আগেভাগে কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নীতির অংশ হিসেবেই তৃণমূলকে আলোচনায় ডাকা হয়েছে। ইতিপূর্বে জুলাই মাসে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আরও সুশৃঙ্খল যোগাযোগ প্রক্রিয়া তৈরি করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিল। তাই এই বৈঠককে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুইটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রধান আপত্তি। প্রথমত, রাজ্যের সিইও দফতর বাইরে থেকে প্রায় এক হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়ে তোলপাড়। এতদিন জরুরি ডেটা সংক্রান্ত কাজ জেলা প্রশাসন নিজস্ব অস্থায়ী কর্মী, BSK কর্মী এবং চুক্তিভিত্তিক অপারেটর দিয়ে পরিচালনা করত। হঠাৎ করে কেন্দ্রীয়ভাবে এত বিপুল কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকার।
দ্বিতীয়ত, বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছে নবান্ন। রাজ্যের অভিযোগ, এই ধরনের প্রস্তাব ভোটারদের সমান সুযোগের প্রশ্নে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকে যেতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মত, মুখ্যমন্ত্রীর ধারাবাহিক আপত্তি ও চিঠির জেরে কমিশনকে আলোচনায় নামতেই হলো। শুক্রবারের বৈঠকে এই দুই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছাড়াও রাজ্যের চলতি ভোটকাজ সংক্রান্ত নানা ইস্যুতে বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
