
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের ভেটিং প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯টি নির্দিষ্ট দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এখন থেকে আরও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই হবে। এই নতুন নীতি কার্যকর হয়েছে ২৭ নভেম্বর ২০২৫-এর পর থেকে দাখিল হওয়া বা মুলতুবি থাকা সব আবেদনে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের উপর গুলি চালানোর ঘটনার পরই এই সিদ্ধান্তে গতি আসে। হামলাকারী ছিলেন আফগান নাগরিক, যিনি ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ট্রাম্প প্রশাসন স্ক্রিনিং পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানায়, আবেদনকারীর নিজ দেশের পরিচয়পত্র কতটা নিরাপদ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশটি কতটা সহযোগী এই দুটি বিষয় এখন থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। যেসব দেশ তালিকাভুক্ত হয়েছে তারা হল আফগানিস্তান, মায়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক বছরে আশ্রয় মামলা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নজরদারি দুর্বল হয়েছিল। নতুন নীতি সেই শৈথিল্য কাটিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির উৎস দেশগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড পুনঃপ্রবর্তন করছে। ফলে এসব দেশের আবেদনকারীদের জন্য গ্রিন কার্ড বা আশ্রয় প্রক্রিয়া আরও সময়সাপেক্ষ ও কঠোর হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল গার্ডে হামলার পর প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। রাজনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি নির্দেশ মার্কিন অভিবাসন নীতিকে আবারও কঠোর পথে ফিরিয়ে আনল।
