
বীরভূমের বোলপুর থানার প্রাক্তন আইসি লিটন হালদারকে টানা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বদলি করা ঘিরে রাজ্য পুলিশ–মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা ফোন–কেলেঙ্কারি অভিযোগ এবং সেই অডিয়ো ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ঘটনার দিকে নজর ছিল প্রশাসনেরও। গত বুধবার লিটন হালদারকে বোলপুর থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পাঠানো হয়েছিল জলপাইগুড়ি ডিআইবি–তে। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন নির্দেশিকায় আবারও বদলি এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে।
শুক্রবার রাতে রাজ্য পুলিশের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে লিটন হালদার–সহ মোট ১১ জন পুলিশ অফিসারের বদলির কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডেপুটি কমিশনার, এসডিপিও সহ বিভিন্ন পদমর্যাদার আরও ৪৮ জন অফিসারের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে এটি রুটিন বদলি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিধানসভা নির্বাচনের একেবারে আগে এই ধারাবাহিক পরিবর্তন অনেকটাই কৌশলী পদক্ষেপ।
বোলপুর আইসি–কে ঘিরে বিতর্ক শুরু কয়েক মাস আগে। এ বছরের মে মাসে ভাইরাল হওয়া একটি অডিয়ো ক্লিপে অভিযোগ ওঠে জেল থেকে বেরোনোর পর অনুব্রত মণ্ডল ফোনে লিটন হালদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে কটূক্তি ও অশালীন মন্তব্য করেছিলেন। সেই অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনার ঝাঁপটা আসে প্রশাসনের উপরেও। যদিও পুলিশ সূত্রে এই অডিওর সত্যতা নিয়ে খোলা মুখে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
একদিকে পুলিশের দাবি এটি নিয়মমাফিক বদলি। অন্যদিকে রাজনৈতিক বাতাবরণে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কেন লিটন হালদারের দায়িত্ব এত দ্রুত বদল করা হল। বিভিন্ন থানা এবং অফিসারদের পরপর স্থানান্তর সব মিলিয়ে রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল এখন আলোচনা–কেন্দ্রবিন্দুতে। বোলপুরের প্রাক্তন আইসি–কে ঘিরে সেই বিতর্ক আরও একবার নতুন মাত্রা পেল।
