
সোনাগাছির যৌনপল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক কমাতে অবশেষে বিশেষ শিবির করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লি সোনাগাছির যৌনকর্মীদের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরে গত শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়েছিল তিনটি সংগঠন ‘সোসাইটি অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাকশন’, ‘ঊষা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেড’ এবং ‘আমরা পদাতিক’। তার পরেই কমিশনের তরফে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে যে ৯ ডিসেম্বরের পর সোনাগাছিতে বিশেষ সহায়তা শিবির করা হবে। শিবিরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিজেও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি।
এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বহু যৌনকর্মীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকের কাছেই ২০০২ সাল বা তার আগের নথি নেই। অনেকে পরিবার-পরিজন ছেড়ে নতুন করে পেশায় আসায় নিজেদের পরিচয় সংক্রান্ত কোনও নথিই নেই। আবার অনেকেই পরিবারের কাছে তাঁদের পেশা গোপন করে রাখায় বাড়ির নথি সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। ফলেই বিএলও-র দেওয়া ফর্ম নিতে চাননি বহু যৌনকর্মী; অনেকে আতঙ্কে এলাকা ছেড়েও গিয়েছেন।
‘আমরা পদাতিক’-এর সংগঠক মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় জানান, ‘‘অনেকে মনে করেছিলেন ফর্ম নিলে তা জমা দিতেই হবে। নথি না থাকায় তাঁরা আতঙ্কে সোনাগাছি ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়েছেন।’’ এখন তাঁদের ফিরিয়ে আনতেই সংগঠনগুলি প্রচার শুরু করেছে।
সোনাগাছিতে প্রায় ১০ হাজার যৌনকর্মী থাকেন বা আসা-যাওয়া করেন। এর মধ্যে সাত হাজারের মতো স্থায়ীভাবে সেখানেই থাকেন, বহু জন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীও। তাঁদের প্রশ্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ দেওয়া হলে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন? যদিও ‘দুর্বার’-এর তরফে জানানো হয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত লিখিত না আসা পর্যন্ত তারা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তা সত্ত্বেও সংগঠনগুলি আশা করছে, বিশেষ শিবিরের আয়োজন হলে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে যৌনকর্মীদের সমস্যার সমাধান মিলবে।
