
মৌমিতা চক্রবর্তী
বাইরে বসে যখন ড্রিলের আওয়াজটা কানে ঢুকল, তখন মনে হচ্ছে, জীবনে যত নীরব নায়ক আছে, তাদের গুরুত্ব আমরা ঠিক তখনই বুঝি যখন তারা চুপচাপ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
দাঁত তার একটা উদাহরণ।
আর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার, আরেকটা বড় উদাহরণ।
কারণ দেখুন –
গত দশ বছরে আমরা রোজ কী পেয়েছি?
নিরাপত্তা, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ, সীমান্তে শক্ত অবস্থান, অর্থনীতির স্টেবল গতি, আন্তর্জাতিক সম্মান, ডিজিটাল ভারতের সুবিধা—এগুলো সব এতটাই “স্বাভাবিক” হয়ে গেছে যে অনেকেই এগুলোর দাম আর বোঝে না।
যেভাবে দাঁতের দাম বোঝা যায় ব্যথা শুরু হলে,
ঠিক সেভাবেই সরকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ.. তা বোঝা যায় যখন দেশ দুর্বল হাতের নিচে চলে যায়।
ইন্টারনেটে এখন সবাই বলে –
“India is safe because it’s not being run on experiments anymore.”
এটা সত্যি।
কারণ –
📍Article 370 বাতিল না হলে আজও কাশ্মীর বারুদঘর থাকত।
📍 Surgical strike / Balakot না হলে সন্ত্রাসীরা মাথা তুলে দাঁড়াত।
📍 Digital India না হলে আজকের UPI রেভল্যুশন দেখতাম না।
📍 Vaccine diplomacy না হলে COVID এর সময় হাজারো প্রাণ বেঁচে যেত না।
📍 Infrastructure push না থাকলে দেশটা আজও ১৯৮০’র রাস্তা নিয়ে হাঁটত।
… এই বিশাল পরিবর্তনগুলো এতটাই নীরবে, এতটাই নিয়মিতভাবে আমাদের জীবনে ঢুকে গেছে যে আমরা বুঝতেই পারি না।
আজকের ভারতের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা আর মর্যাদা একটা সরকারের শক্ত অবস্থান ছাড়া সম্ভব হত না।
ডেন্টিস্টের চেয়ারে বসে হঠাৎ মনে হল, আমরা দাঁতকে যতক্ষণ আদর করি না, সে ততক্ষণ চুপচাপ কাজ করে। যখন সে ভেঙে পড়ে, তখনই আমরা তার মূল্য বুঝি।
ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিও ঠিক এই দাঁতের মতো!
মোদী সরকার যতক্ষণ শক্ত হাতে দেশ চালাচ্ছে, আমরা সবাই শান্তিতে আছি।
যেদিন সেই হাতটা দুর্বল হবে—
সেদিন হয়তো অনেকেই বুঝবে, “আরে, দাঁতটা তো ভালোই ছিল… ভুল করে তুলে ফেললাম!”
আজ দাঁতের চেম্বারে বসে আত্মসমীক্ষা করে দেখলাম, আমরা দাঁতের মূল্য বুঝতে ব্যথা লাগলেই শিখি।
কিন্তু দেশের নিরাপত্তা, দেশের ভবিষ্যৎ – এই দুটো যেন ব্যথা লাগার আগেই বুঝতে পারি।
সুরক্ষা থাকা মানেই তার কৃতিত্ব অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নয়।বরং তার নীরবতা, তার কাজ ঠিকমতো হচ্ছে, তারই প্রমাণ..

