
মুর্শিদাবাদে প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’-এর নাম ঘিরে রাজনৈতিক থেকে ধর্মীয় মহলে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মসজিদ নির্মাণে আপত্তি না থাকলেও শুধুমাত্র ‘বাবরি’ নামটিই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে একাধিক ধর্মীয় নেতা ও মৌলানাদের। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই, কিন্তু নামটি নিয়ে আপত্তি রয়েছে। একই সুরে কথা বলেছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রধান কার্তিক মহারাজও।
এবার সেই আপত্তির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন রাজ্যের একাংশ মৌলানাও। নাম পরিবর্তন করা হলে বিরোধিতা অনেকাংশে থিতিয়ে যেত। এক মৌলানা ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় অমুসলিমদের আপত্তিতে হজরত মহম্মদ (স.) নিজের নামে থাকা ‘রসুলুল্লাহ’ শব্দটি বাদ দিতে রাজি হয়েছিলেন শান্তির স্বার্থে। তাঁর মতে, একটি নাম বাদ দিলে যদি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে, তাহলে নাম বদলানোতেই মঙ্গল।
যদিও মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। মোট বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তাঁর দাবি, মসজিদের পাশাপাশি একটি বিশাল হাসপাতাল ও স্কুলও তৈরি করা হবে। সরকারি অর্থ নয়, সবটাই হবে ব্যক্তিগত অনুদানে। এমনকি আগামী এক মাসের মধ্যে এক ব্যক্তি ৮০ কোটি টাকা সাহায্য দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি, যদিও সেই দাতার নাম প্রকাশ করেননি।
এদিকে ধর্মীয় নেতাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি অর্থে মসজিদ বা মন্দির কোনওটিই তৈরি হওয়া উচিত নয়। সরকারের উচিত হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ করা।
ওয়াকফ আইন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন মৌলানা। তাঁদের অভিযোগ, ওয়াকফ আইন কেন্দ্রীয় হলেও মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে রাজ্যে তা কার্যকর করবেন না বলেছিলেন। পরে অবস্থান পালটানোয় তাঁরা “আঘাত পেয়েছেন”। তাঁদের সতর্ক মন্তব্য “আমরা নিজেদের ধর্মস্থান নিজেরাই রক্ষা করতে পারি, ভয় দেখিয়ে সমর্থন পাওয়া যাবে না।”
বিতর্ক বাড়ছে, আর তার কেন্দ্রবিন্দু একটাই শব্দ, ‘বাবরি’।
