
৬ ডিসেম্বর ‘শৌর্য দিবস’ উপলক্ষে কলকাতার সিমলা স্ট্রিট থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক মিছিলের আয়োজন করে বিজেপি। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আদালতের অনুমতি নিয়েই মিছিল ও পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে আয়োজকদের দাবি। সকাল থেকেই এলাকায় পুলিশের কড়া নিরাপত্তা নজরদারি ছিল।
মিছিলটি সিমলা স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে একাধিক সংযোগ রাস্তা ধরে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে পৌঁছায়। কর্মী–সমর্থকদের ভিড়ে গোটা এলাকা কার্যত রঙিন পতাকায় ঢেকে যায়। স্লোগান, ব্যানার, পোস্টার, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক আবহ আরও ঘন হয়ে ওঠে। শুভেন্দু অধিকারী মিছিলের সামনে থেকেই হাঁটেন এবং পথচলতি মানুষদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
শ্যামবাজারে পৌঁছে অনুষ্ঠিত হয় একটি সংক্ষিপ্ত জনসভা। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য দিতে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনকে নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “রাজ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে, দুর্নীতি বাড়ছে, আর প্রশাসন সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ।” তিনি আরও জানান, ‘শৌর্য দিবস’ পালনের উদ্দেশ্য হল “ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো এবং মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারকে স্মরণ করানো।”
সভায় বক্তারা দাবি করেন, আদালতের অনুমতি নিয়েই সমস্ত কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও পুরো এলাকা জুড়ে ব্যারিকেড, নজরদারি ক্যামেরা ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। যদিও কোথাও বড় কোনও বিক্ষোভ বা অশান্তির ঘটনা ঘটেনি, তবুও সতর্কতার কারণে কয়েকটি পথ কিছু সময়ের জন্য ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলে এই কর্মসূচি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। শীতের শেষে পঞ্চায়েত ও আসন্ন ভোটকে সামনে রেখে বিজেপির এই শৌর্য দিবস মিছিলকে অনেকেই আগাম প্রচারের অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্য দিকে শাসক দল এই কর্মসূচিকে “নাটক” বলে ব্যাখ্যা করেছে।
সব মিলিয়ে, ৬ ডিসেম্বরের শ্যামবাজারের রাজনৈতিক পরিবেশ আবারও প্রমাণ করল রাজ্যে আগামী দিনের লড়াই আরও চড়া হতে চলেছে।
