
১৪ বছর পর ভারত সফরে এসে প্রথমেই কলকাতায় পা রাখেন লিওনেল মেসি। শনিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, তা মুহূর্তের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, স্টেডিয়ামের ভিতরে ভাঙচুর এবং দর্শকদের ক্ষোভ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় প্রশাসন।
এই ঘটনার দায় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগ এবং অনুষ্ঠানটির আয়োজন, পরিকল্পনা কিংবা বাস্তবায়নে এআইএফএফ কোনওভাবেই যুক্ত ছিল না। এমনকি এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে ফেডারেশনকে কিছুই জানানো হয়নি এবং কোনও অনুমতিও চাওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ফুটবল সংস্থা আইএফএ-ও একই সুরে কথা বলেছে। আইএফএ তাদের সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় জানিয়েছে, মেসি, লুই সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পলকে নিয়ে হওয়া এই অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ। আইএফএ-র অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়াই এই আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আইএফএ ক্রীড়ামোদী দর্শকদের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেসি এর আগেও ২০১১ সালে কলকাতায় এসেছিলেন। সেবার ২ সেপ্টেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই আর্জেন্টিনার হয়ে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে এবারের সফর স্মরণীয় হওয়ার বদলে বিশৃঙ্খলার জন্যই আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে গেল।
