
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন। ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে অরূপ বিশ্বাসের। মঙ্গলবার তাঁর পাঠানো ‘সাদা পাতার’ পদত্যাগপত্র মেনে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে আপাতত রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যের পাশাপাশি এবার ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি।
সূত্রের খবর, যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ড সামনে আসার পর নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নিজেই পদত্যাগের আবেদন জানান অরূপ বিশ্বাস। চিঠিটি প্রকাশ্যে আসতেই নবান্নে তৎপরতা বাড়ে। ক্রীড়া দফতরের আধিকারিকদের ডেকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের পাশাপাশি বিদ্যুৎ দফতরের দায়িত্বেও ছিলেন। তবে যুবভারতী ইস্যুতে চাপ বাড়তেই তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পদত্যাগপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। কেউ দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। সাদা পাতায় লেখা চিঠি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অনেকে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। এবার রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভূমিকার দিকে তাকিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা। যুবভারতী কাণ্ডের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, সে দিকেই নজর রাজ্যবাসীর। অভিযোগকারীরা সঠিক বিচার পান কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
নবান্ন সূত্রের ইঙ্গিত, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও রকম প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া দফতর চলায় প্রশাসনিক স্তরে কড়া বার্তা গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
