
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন লাগোয়া পাথরপ্রতিমা ব্লকের বিজিয়াড়া জঙ্গলে ফের বাঘ–মানুষের রুদ্ধশ্বাস লড়াই। স্বামী ও সঙ্গীদের সামনে বাঘের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হলেন এক মৎস্যজীবী গৃহবধূ। তবে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলে শেষ পর্যন্ত বাঘের মুখ থেকেই তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন স্বামী ও সহকর্মীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল প্রায় আটটা নাগাদ। জানা গিয়েছে, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার অন্তর্গত সত্যদাসপুর এলাকার বাসিন্দা শংকরী নায়েক তাঁর স্বামী সুভাস নায়েক ও আরও তিনজন মৎস্যজীবীর সঙ্গে ভোর পাঁচটা নাগাদ নৌকাযোগে বিজিয়াড়া সংলগ্ন কলস জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে যান। জঙ্গলের গভীরে কাজ চলাকালীন আচমকাই ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। চোখের সামনে শংকরী নায়েককে ধরে টেনে জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যেতে থাকে বাঘটি।
মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জীবন হাতে নিয়ে স্বামী সুভাস নায়েক ও তাঁর সঙ্গীরা লাঠি, বৈঠা এবং যা হাতের কাছে পেয়েছেন তাই নিয়ে বাঘের মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বাঘ ও মানুষের লড়াই। একসময় একাধিক আঘাতে আহত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় বাঘটি। সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই শংকরী নায়েককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
গুরুতর আহত শংকরী নায়েককে প্রথমে মাধবনগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কাকদ্বীপ মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শরীরের একাধিক স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে, তবে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। বারবার বাঘের হানায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় মৎস্যজীবীরা বনদপ্তরের আরও কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির দাবি তুলেছেন। সুন্দরবনের জঙ্গলে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে প্রতিদিন যে মৃত্যুভয় নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে, ফের তা স্পষ্ট হয়ে উঠল এই ঘটনায়।
