
সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল কুলতলি ব্লকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি ব্লকের মৈপিঠ বৈকুন্ঠপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন ঠাকুরান নদীর চরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে ম্যানগ্রোভ কেটে বেআইনিভাবে মাছের ভেড়ি বা পার্ক তৈরির অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তরজা চরমে উঠেছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে, এই বেআইনি কাজের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কুলতলি ব্লক সভাপতি পিন্টু প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধান যুক্ত। বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য উত্তম হালদারের দাবি, শুধু মৈপিঠ নয়, কুলতলি ব্লকের একাধিক এলাকায় ম্যানগ্রোভ কেটে ভেড়ি তৈরির কাজ চলছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন ও পুলিশের মদতেই এই পরিবেশ ধ্বংসের কাজ নির্বিঘ্নে চলছে।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা ও কুলতলি এরিয়া কমিটির সম্পাদক উদয় মণ্ডল অভিযোগ করেন, গোটা কুলতলি জুড়েই পরিকল্পিতভাবে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, শাসক দলের একাংশ বেআইনি লাভের আশায় সুন্দরবনের পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলছে। এই ঘটনায় যুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও তোলেন তিনি।
এলাকার বাসিন্দা গোষ্ঠ মণ্ডলের অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের মদত ছাড়া এত বড় কাজ সম্ভব নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রতিবাদ করলে হেনস্থার আশঙ্কায় অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার না করে কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ সাহাদাত শেখ বলেন, বিষয়টি পঞ্চায়েত ও বনদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে প্রশ্ন উঠছে, আসলে কতটা সুরক্ষিত সুন্দরবনের পরিবেশ?
