
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও এনডিএ জোটের সহায়তায় সরকার গড়েছে বিজেপি। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে বড়সড় ভবিষ্যদ্বাণী করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আমদাবাদের এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৯ সালেও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে বিজেপি। একইসঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “রাহুলকে বোঝানোর সাধ্য আমার নেই।”
অমিত শাহের এই দাবির নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেসের আদর্শগত অবস্থানের বিরোধিতা। শাহের মতে, রাম মন্দির নির্মাণ, ৩৭০ ধারা বিলোপ, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা তিন তালাক বিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো দেশের অধিকাংশ মানুষ সমর্থন করেছেন। কিন্তু কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী এই প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। শাহের যুক্তি খুব সরল— জনগণ যা চায়, তার বিরোধিতা করলে ভোট পাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী লোকসভায় তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন কেন কংগ্রেস বারবার হারছে? শাহ সেই প্রসঙ্গের রেশ ধরেই বলেন, এই সহজ রাজনৈতিক অঙ্কটা রাহুল গান্ধীর বোধগম্য নয়।
২০২৪-এর ফলাফলে বিজেপি কিছুটা ধাক্কা খেলেও (২৪০টি আসন), শাহ বোঝাতে চেয়েছেন দলের মনোবল বিন্দুমাত্র কমেনি। ২০২৯-এর কথা আগাম বলে তিনি নিজের কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইছেন। বিজেপি দীর্ঘকাল ধরেই রাহুল গান্ধীকে একজন ‘অপরিণত’ নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। “রাহুলকে বোঝানোর সাধ্য নেই” বলার মাধ্যমে শাহ সেই পুরনো বয়ানকেই নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয় নিয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী বিরোধীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বিরোধী নেতার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলাকে অনেকেই সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী এবং উসকানিমূলক বলে মনে করছেন।
অমিত শাহের এই মন্তব্যকে কেবল ‘তীরবিদ্ধ করা’ বললে ভুল হবে; এটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। শাহ খুব সুকৌশলে কংগ্রেসকে ‘জনগণ-বিরোধী’ হিসেবে দাগিয়ে দিতে চাইছেন। তবে এটাও অনস্বীকার্য যে, ২০২৪-এর নির্বাচনে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি (৯৯টি আসন) এবং রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রার পর তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। শাহ সম্ভবত এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকেই রুখতে চাইছেন।
বিজেপির এই “ভবিষ্যদ্বাণী” আসলে একটি আগাম ডিফেন্সিভ মেকানিজম। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে বিজেপি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, সেখানে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরের মনোবল ভেঙে দেওয়াই শাহের মূল লক্ষ্য। তবে গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে জনগণ। ২০২৯ অনেক দূর, কিন্তু শাহের এই ‘মাইন্ড গেম’ ভারতীয় রাজনীতিকে যে আরও তপ্ত করে তুলবে, তাতে সন্দেহ নেই।।
