
মহিষাদল কুমোরটুলিতে রাতের অন্ধকারে একাধিক প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তর্ক। সোমবার সকালে প্রতিমা শিল্পীরা দেখেন, তাদের তৈরি একাধিক কালি ও সরস্বতী প্রতিমার মাথা, হাত ও পা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। কুমোরটুলিতে প্রায় ১০টির বেশি প্রতিমা নির্মাণ কার্যালয় রয়েছে, যেখানে শিল্পীরা প্রতিদিন রাতে প্রতিমা তৈরি ও পরিশ্রমে ব্যস্ত থাকেন।
প্রতিমা শিল্পী সুমিত সামন্ত বলেন, “রবিবার রাত ১টা পর্যন্ত আমরা কাজ করছিলাম। ভোরে দেখতেই চমকে গিয়েছি, একাধিক প্রতিমা ভাঙা। ঘটনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং এলাকার নিরাপত্তার জন্য থানায় অভিযোগ করেছি। এখন পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার।”
ঘটনার পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সোশাল মিডিয়ায় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, “শাসকদলের মদতে দিনে দিনে এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এদিকে, শাসকদলের বিধায়ক তিলককুমার চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, “বিজেপি রাজ্যজুড়ে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে। ২০২১ সালের আগে এমন ঘটনা হয়নি। তবে যারা এই কাজ করেছে, তাদের ধরতে পুলিশ তদন্ত করছে।”
নিরাপত্তার দাবিতে শিল্পীরা মহিষাদল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ এখনও তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ঘটনা মহিষাদল কুমোরটুলিতে প্রথাগত দুর্গা ও সরস্বতী প্রতিমা প্রস্তুতির মৌসুমে সংঘটিত হওয়ায় শিল্পী ও স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে শিল্পীরা নিজেদের নিরাপত্তার দাবি করছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো একে নিয়ে তীব্র যুক্তি-তর্কে জড়াচ্ছে।
