
সীমান্তে ‘পুশব্যাক’-এর তিক্ত অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা আর মানসিক চাপে ভরা সময় পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর। বীরভূমের সোনালি বিবি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও নবজাতক, দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে শিশুটিকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সীমান্তে ‘পুশব্যাক’-এর ঘটনায় সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবার চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার হন। একপর্যায়ে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। পরে নানা আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁরা আবার বাংলায় ফিরে আসেন। সেই সময়েই গর্ভবতী সোনালি শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে চরম চাপে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতেই প্রসব-যন্ত্রণা শুরু হলে তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় কোনও জটিলতা হয়নি। বর্তমানে সোনালি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। পরিবারের সদস্যরাও হাসপাতালেই রয়েছেন, নবজাতককে ঘিরে ব্যস্ততা ও আনন্দে ভরে উঠেছে তাঁদের দিন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামপুরহাটে জনসভা করার কথা ছিল। দলীয় সূত্রের খবর, সভা শেষে সোনালি বিবির সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। তবে সভার আগের দিনই সন্তানের জন্ম হওয়ায় সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ‘পুশব্যাক’-এর ফলে একটি পরিবার যে মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, এই সন্তানের জন্ম তার মধ্যেই আশার আলো। প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্ত এলাকায় ‘পুশব্যাক’ সংক্রান্ত নীতিতে আরও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। সোনালি বিবির ঘটনা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। বীরভূমের মানুষ এখন আশাবাদী, এই শিশুর জন্ম সোনালি বিবির জীবনে নিরাপত্তা, সম্মান ও স্থিতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
