
বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে ফের তীব্র বাকযুদ্ধ। রামপুরহাটের সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানা করে বলেছিলেন, রাজ্যে বিজেপিকে কোনওভাবেই “মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না”। তাঁর এই মন্তব্যের পাল্টা দিতে একদিন পরেই সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে।
দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “মাথাচাড়া দিতে দেব না এই কথা বলতে বলতেই আজ বিজেপি বাংলার প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছে।” তাঁর দাবি, শুরু থেকেই বিজেপির নেতা-কর্মীদের উপর একের পর এক হামলা, সংঘর্ষ এমনকি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবুও দল লড়াই থামায়নি এবং ভবিষ্যতেও থামবে না। দিলীপের কথায়, বাংলার উন্নয়নের দাবিতে বিজেপির সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, প্রয়োজনে আত্মবলিদান দিতেও প্রস্তুত দল।
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের মুখে দিলীপ ঘোষের সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক এবং বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার পর থেকেই জনসভা শুরু করেছেন তিনি। অমিত শাহ যেখানে রাজ্যে বিজেপির ২০০-র বেশি আসনের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন, সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল পাবে ২৫০-র বেশি আসন। এই প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, লোকসভা ভোটে ‘৪২-এ ৪২’-এর দাবি করা হয়েছিল, ফল কী হয়েছে তা সবাই জানে।
এসআইআর ইস্যুতেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, এক সময় বলা হয়েছিল এসআইআর করতে দেওয়া হবে না, পরে দাবি করা হয় কোনও নাম বাদ যাবে না। অথচ বাস্তবে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং তৃণমূলের কাছে মানুষের সামনে বলার মতো কোনও বাস্তব ইস্যু নেই। বাংলার মানুষ পরিবর্তন চান, আর সেটাই আগামী ভোটে প্রতিফলিত হবে, এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
