
কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক দফতরে ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত মামলার শুনানিকে ঘিরে শুক্রবার নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আদালত কক্ষে অতিরিক্ত ভিড় ও হইচইয়ের জেরে শেষ পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রেখে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, গোটা বিশৃঙ্খলা পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেই তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইডির মামলার শুনানি ভেস্তে দিতেই আদালত কক্ষে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাটের স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ায় বিতর্ক আরও উসকে উঠেছে, যদিও ওই চ্যাটের সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির অভিযান শুরু হতেই সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার। কিছুক্ষণ পর মুখ্যমন্ত্রীকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়। এরপর তিনি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও যান, যেখানে তল্লাশি চলছিল। এই উপস্থিতিকেই তদন্তে বাধা বলে উল্লেখ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে ইডি।
ইডির তরফে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করছে। তৃণমূলের লিগাল সেলের বক্তব্য, দলীয় স্তরে তথ্য আদানপ্রদান নতুন নয় এবং বিরোধীরা তা হাতিয়ার করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে।
শেষ পর্যন্ত আদালতের অশান্ত পরিস্থিতির কারণে মামলার শুনানি মুলতুবি রাখা হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। তার আগেই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
