
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার চম্পাহাটির হাড়ালে শনিবার সকালে একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় কমপক্ষে চার জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের কম্পন এত তীব্র ছিল যে পাশের গাছগুলোও ঝলসে গেছে। বিস্ফোরণে বাজি কারখানার চাল উড়ে গিয়ে বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া আগুন নেভাতে পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে। এলাকাটি কড়াকড়ি নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বাজি কারখানাটি বেআইনিভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। পুলিশ কারা এর নেপথ্যে রয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে নারাজ। এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা জানান, “পরপর তিনটি বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। আহতদের মুখ ঝলসে গেছে।”
চম্পাহাটির এই ঘটনার পর সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একই গ্রামের সর্দারপাড়ায় একটি বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে তিনজন অগ্নিদগ্ধ হন। সেই ঘটনায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব থাকায় এবারও একই রকম ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশ এখন তদন্তে লিপ্ত। নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
চম্পাহাটিতে এই ভয়াবহ ঘটনার মাধ্যমে বেআইনি বাজি কারখানার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সচেতনতা এবং প্রশাসনিক তৎপরতার প্রয়োজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
