
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ক্রমশ রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠছে এই অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক একাধিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। চিঠির শেষে হাতে লেখা মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “জানি আপনি কোনও উত্তর দেবেন না, তবু সমস্ত তথ্য আপনার সামনে তুলে ধরা আমার কর্তব্য।”
মমতার অভিযোগ, রাজ্যের বাইরে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যার কথা বারবার জানানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেরিতে এবং আংশিক ছাড় দিয়েছে। পরিবারের অনুমোদিত সদস্যের মাধ্যমে শুনানিতে হাজির হওয়ার সুযোগ থাকলেও, তা সকল পরিযায়ী শ্রমিক পাচ্ছেন না। এতে কমিশনের সংবেদনশীলতার অভাব স্পষ্ট হচ্ছে বলেই দাবি নবান্নের।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক আচরণে স্বেচ্ছাচারিতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের ছাপ রয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য যেখানে অন্তর্ভুক্তি হওয়া উচিত, সেখানে তা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিণত হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূলে আঘাত করছে বলে মত মুখ্যমন্ত্রীর।
রাজ্যে নিযুক্ত পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো-অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, অনেকেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন এবং কেউ কেউ সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসভ্য আচরণ করছেন। এমনকি কিছু পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে মানুষকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নাম বা বয়সের সামান্য ভুল, যেমন ‘মমতা’ ও ‘মামতা’ কিংবা ‘কুমার’ ও ‘কোমার’-এর মতো তুচ্ছ কারণে মানুষকে বারবার তলব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। এতে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও রোজগারের ক্ষতি হচ্ছে। চিঠির শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এখনও সময় থাকতেই নির্বাচন কমিশন মানুষের হয়রানি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে, যদিও কোনও জবাব না পেলেও সত্য তুলে ধরা তাঁর দায়িত্ব বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
