
কয়লা কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় এবার আইনি পথে হাঁটলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী সূর্যনীল দাসের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর করা অভিযোগের পক্ষে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে, নচেৎ মানহানির মামলার পথে যাবেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
নোটিসে অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে শুভেন্দু অধিকারীকে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে ‘দত্তক সন্তান’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী এবং সম্মানহানিকর বলে দাবি শুভেন্দুর আইনজীবীর। চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্বাচনী লড়াইয়ের পরাজয় থেকেই এই ধরনের মন্তব্যের সূত্রপাত।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করে। ওই তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ ছিল, ইডির মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ইডি পাল্টা বিবৃতিতে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং এই মামলায় হাওয়ালা লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে।
এই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীর নাম জড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন ও মানহানিকর’ দাবি করে এবার আইনি লড়াইয়ের পথে শুভেন্দু। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, এই আইনি টানাপোড়েন কি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র করবে?
