
২০২৬-এর রাজনীতি শুরুর আগেই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে একটা বড় ধাক্কা পড়ল। যেটা দেখলেই বোঝা যায়, বিজেপি একরকম ‘নিজেই পা দিয়ে ফাঁদে পড়েছে’ ঠিক সেই ছবি, যা বিজেপি নিজে আঁকতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রঙে রঙে তৃণমূলের হাতে ঢেলে দিল। I-PAC-এ ইডির হানা বিজেপির কৌশলিক ব্যর্থতার নিখুঁত প্রমাণ।
কেন এই হানা এমন আঘাত হানল? সাধারণ মানুষ মনে করছে, এটা যেন রাজনৈতিক নাটক, কিন্তু নাটক নয়, সরাসরি বাস্তবের রিয়েলিটি শো। বিজেপি, যা ইতিমধ্যেই ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলকে হুমকি দেওয়ার কৌশল তৈরি করছিল, সেই কৌশল এক অপ্রত্যাশিত মোড়ে ভেস্তে গেল। ইডির হানা তো কেবল I-PAC-এর অফিসে সীমাবদ্ধ থাকল না; এটি কার্যত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রাপ্ত ভোটের হিসেবেও বড় ধাক্কা।
অবশ্য, কেউ কেউ বলতেই পারেন আইনি ব্যবস্থা, তদন্তের অংশ। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। এর timing, scope, আর presentation এমনভাবে হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ মনে করছে, এটা বিজেপি নিজেই পরিকল্পনা করেছিল যেন ভোটের আগে মিডিয়ার আলোচিত বিষয় তৈরি হয়। কিন্তু ঘটনা উল্টো। যেই আলোচনার চাপে বিজেপি থাকতে চেয়েছিল, সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল এখন আরো শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
বিজেপি চেষ্টা করছে রাজনৈতিক স্কোর করার, কিন্তু ব্যর্থতার ধাক্কায় নিজের দৃষ্টিকোণই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইডির হানা যেমনই দেখানো হোক, জনগণ বুঝতে পারছে যে, এটি কেবল বিজেপির একটি ভুল চাল, একটা এমন কৌশল, যা কেবল তাদের ভোটের ভিত্তি নাড়া দিচ্ছে, কিন্তু তৃণমূলকে আরও কেন্দ্রীভূত করে তুলছে।
এবার ভাবুন, যদি নির্বাচনের আগে বিজেপি এমন হেভি স্ট্র্যাটেজি নেয়, তাহলে এর ফলাফল কি হতে পারে? গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া আর স্থানীয় রাজনীতির মিশ্রণে, এই ঘটনা তৃণমূলের পক্ষে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত সাবলীলভাবে। একদিকে বিজেপির চেষ্টার প্রহসন, অন্যদিকে তৃণমূলের রাজনৈতিক ধৈর্য, দেখলেই বোঝা যায়, ভোটের মাঠে কে কার চাপে থাকবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ঘটনায় রাজনৈতিক সচেতন মানুষদের মনে প্রশ্ন জাগছে: কার খেলা, কার কৌশল? বিজেপি হয়তো ভাবেছিল, আইনের ছত্রছায়ায় তাদের সঠিকভাবে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো, তৃণমূলই সেই বার্তাকে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে। I-PAC-এর হানা কেবল একটি ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিক মানসিকতা ও কৌশলের আয়নার মতো।
বিজেপির এই হানা বা কৌশল ২০২৬-এর রাজনীতিতে তাদের জন্য বিপরীতপ্রভাব ফেলেছে। যে পথটি তারা তৈরি করতে চেয়েছিল, তৃণমূল সেটি আরও শক্তভাবে দখল করে ফেলেছে। ভোটের মাঠে এখন যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা স্পষ্ট: বিজেপি নিজের ভুলে তৃণমূলকে আরও ক্লিয়ার করে পথ দেখিয়েছে।
এটি একটি textbook case, যখন এক দল কৌশলিকভাবে অন্য দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, কিন্তু বাস্তবতা, timing, এবং জনমতের দিক নির্দেশনার কারণে, ফলাফল পুরোপুরি উল্টো হয়ে যায়। বাংলার ভোটের ময়দানে এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি অস্থায়ী শক নয়; এটি তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তিকে ২০২৬-এর নির্বাচনের জন্য আরও দৃঢ় করেছে।
I-PAC-এ ইডির হানা কোনো অল্পখাট্টা ঘটনা নয়। এটি বিজেপির রাজনৈতিক ভুলের প্রতিফলন, যা তৃণমূলের জন্য এক প্রকার লাল কার্পেট বিছিয়ে দিল। এখন রাজনৈতিক মঞ্চে চুপচাপ বসে থাকা মানুষগুলোই দেখতে পাচ্ছে, কে কার হাতে কতটা ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ২০২৬-এর নির্বাচন পর্যন্ত এই ভুলের ছাপ স্পষ্ট থাকবে, আর বিজেপি এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, তাদের নিজের কৌশলই তাদের ব্যর্থতার কারণ।
