
চন্দ্রকোনা রোডে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার রাতে পুরুলিয়া থেকে মেদিনীপুর ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রিপোর্ট তলব করেছে এবং শুভেন্দুর দফতর থেকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন দুষ্কৃতী বাঁশ ও লাঠি হাতে তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে হামলা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে পড়েন। সেখানে ফাঁড়ির ইনচার্জের সামনেই মেঝেতে বসে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন তিনি। হামলাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত সেখান থেকে না ওঠার কথাও স্পষ্ট করে জানান বিরোধী দলনেতা।
ফাঁড়িতে প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা চলে। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে, আনুমানিক দেড়টা নাগাদ, শুভেন্দু ফাঁড়ি ছাড়েন। বিজেপি সূত্রের খবর, ওই রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। এরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গোটা ঘটনার রিপোর্ট তলব করে। পাশাপাশি, ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১৩ জানুয়ারি চন্দ্রকোনায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের বক্তব্য, থানায় অশান্তি তৈরি করে মানুষের কাজে বাধা দেওয়ার এই কৌশল আর চলবে না। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও কটাক্ষ করে বলেন, সিআরপিএফের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও সামান্য স্লোগান সামলাতে না পারাই এই ঘটনার প্রমাণ।
এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হলে কেন্দ্রীয় রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
