
নয়াদিল্লি: বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, স্বামীর মোট আয়ের ২৫ শতাংশ খোরপোশ হিসেবে স্ত্রীকে দিতে হবে। স্ত্রীর নিজস্ব আয় না থাকলে তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপরই বর্তায়, এ কথা জানিয়ে স্বামীর আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারপতির বেঞ্চ।
মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের শেষ দিকে। শাহজাহানপুরের পারিবারিক আদালত সুরেশ চন্দ্র নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর স্ত্রীকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা আগে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে সুরেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। তাঁর পক্ষের আইনজীবীর দাবি ছিল, সুরেশ একজন দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ পেলেই আয় হয়, নিজের সংসার চালানোই তাঁর পক্ষে কঠিন। এই অবস্থায় খোরপোশের অঙ্ক বাড়ানো হলে তা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।
তবে মঙ্গলবার শুনানির সময় এই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি হাইকোর্ট। আদালত জানায়, প্রাক্তন স্ত্রী যদি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর না হন, তবে তাঁকে খোরপোশ দেওয়া স্বামীর আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। শুধু আর্থিক কষ্টের অজুহাতে সেই দায় এড়ানো যায় না। বিচারপতির বেঞ্চ আরও উল্লেখ করে, বিবাহবিচ্ছেদের পরেও স্ত্রীর সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দিনমজুর হিসেবে সুরেশের দৈনিক আয় প্রায় ৬০০ টাকা। মাসিক গড় আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৮ হাজার টাকা। সেই হিসাব ধরেই আদালত নির্দেশ দেয়, প্রতি মাসে মোট আয়ের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪ হাজার ৫০০ টাকা স্ত্রীকে খোরপোশ হিসেবে দিতে হবে।
এই রায়ে স্পষ্ট বার্তা দিল হাইকোর্ট, খোরপোশ কোনও দয়া নয়, এটি স্ত্রীর অধিকার। আর স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সেই অধিকার নিশ্চিত করাই আদালতের লক্ষ্য।
