
বাংলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা আবারও চর্চায়। ইডির পর এবার কলকাতা ও নিউটাউনে সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকালে নিউটাউন, আলিপুর-সহ শহরের মোট পাঁচটি জায়গায় হানা দেয় সিবিআই। আলিপুর নিউ রোডের একটি আবাসনে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, নিউটাউনের ২৮ নম্বর প্লটে অবস্থিত একটি বহুতল বিলাসবহুল আবাসনে থাকেন নিশা কেজরিওয়াল। সেখানেই মূলত চলছে সিবিআইয়ের তল্লাশি। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এলাকায়। বাইরে ছ’জন আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে, ভিতরেও রয়েছেন সিবিআই আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন এই ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় কার কার কাছে অর্থ গিয়েছে এবং সেই টাকার লেনদেনের পথ কী।
উল্লেখ্য, এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা আই-প্যাক সংক্রান্ত একটি মামলায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল। সেদিন আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে হানা দেয় ইডি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে পৌঁছে যান, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। ইডির অভিযোগ ছিল, তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গেছে।
এবার ইডির পর সিবিআইয়ের এই তল্লাশি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। শাসক ও বিরোধী দু’পক্ষই একে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে। যদিও সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা এবং তদন্তের স্বার্থেই এই অভিযান। তল্লাশি শেষে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
