
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই শুরু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শেষ অধিবেশন। ফলে এই বাজেটকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, এবার পূর্ণাঙ্গ নয়, অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করতে পারে রাজ্য সরকার।
নবান্ন সূত্রের দাবি, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের মন জেতাই হতে পারে বাজেটের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী ও খাদ্যসাথীর মতো জনপ্রিয় প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে নতুন কোনও ঘোষণা হলে তা ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়েও জল্পনা তীব্র। বর্তমানে ষষ্ঠ পে কমিশনের আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা সপ্তম পে কমিশনে পাচ্ছেন প্রায় ৫৮ শতাংশ। ষষ্ঠ পে কমিশনের দশ বছর পূর্ণ হওয়ায় সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা বাজেটে আসতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
এছাড়াও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান খাতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। নতুন কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প কিংবা পুরনো প্রকল্পে সংশোধনী এনে আইনি স্বীকৃতির কথাও শোনা যাচ্ছে। তৃণমূলের অন্দরমহলে আলোচনা, ভোটের আগে সরকারের “রিপোর্ট কার্ড” আরও উজ্জ্বল করতেই এই বাজেটে একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির বাজেট শুধু অর্থনৈতিক নথি নয়, বরং ভোটের ময়দানে তৃণমূলের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজ্যবাসীর জন্য আদৌ কতটা চমক অপেক্ষা করছে, এখন সেটাই দেখার।
