
বেলডাঙায় (Beldanga) খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হলেন জি–২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি। শুক্রবার সকালে সোমা বলেন, “এত বছর সাংবাদিকতা করেছি, এমন অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি। দু’জন আমাকে জোর করে তুলে নেন, চুল ও পা ধরে টানছেন, জামাও টেনে ধরছিল। আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।” হামলায় তার হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
সোমার অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেউ উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় মানুষদেরও মারধর করা হয়েছিল। এই হামলার পটভূমিতে রয়েছে ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু। মৃত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক ছিলেন। ঝাড়খণ্ডে তাঁর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবার ও এলাকাবাসী দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যার ঘটনা।
পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের মতো কর্মসূচি শুরু করেন। প্রশাসন বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামাল দিতে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এমন ঘটনা শাসক দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের ঘটনা পূর্বে বাম জমানায়ও দেখা গিয়েছিল। তৎকালীন সাংবাদিকরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতেন। বেলডাঙায় ঘটনার পর সেই ইতিহাস আবার মনে পড়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত দোষীদের দ্রুত শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রধান দাবি। সোমার মতো সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা করতে গেলে নিরাপদ পরিবেশ থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি, প্রশাসনও এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেলডাঙার এই ঘটনা পুনরায় তুলে ধরেছে, সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঝুঁকি এখনও প্রাসঙ্গিক এবং সমাধান করা জরুরি।
